খুলনা, বাংলাদেশ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

Warning: Attempt to read property "post_excerpt" on null in /home/khulnatoday/public_html/wp-content/themes/sahifa/framework/parts/post-head.php on line 73

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যতিত গণতন্ত্র অর্থহীন : প্রধান বিচারপতি

অনলাইন ডেক্স:

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেছেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ব্যতিত গণতন্ত্র অর্থহীন। একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রকৃত সুন্দর হলো- বাক্স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা। রাষ্ট্র যখন বাক্স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে তখনই বলা যায় যে, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে গণতন্ত্র গুণগত এবং দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং আমাদের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্স্বাধীনতা তথা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যা মৌলিক অধিকার হিসেবে আমাদের মহান সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত হয়েছে।

আজ ‘দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদ’ পত্রিকার উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ। এই দর্পণ তৈরি করেন সাংবাদিকরা। সংবাদপত্রকে বলা হয় রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সরকার এবং বিরোধী দলের পথনির্দেশনা তৈরি করে দেয় সংবাদপত্র। এর কারিগর হলো সাংবাদিক সমাজ।তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্র পরিচালনায় হাজারো আইন রয়েছে। প্রয়োজন নতুন নতুন আইন তৈরিও করা হয়। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত সহজ কাজ নয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্র তথা সাংবাদিক সমাজ অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচার বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগ স্বাধীন না হলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পায় না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন সাংবাদিকরা। ফলে বিচার বিভাগ ও সাংবাদিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক অত্যাবশ্যক। প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিচার বিভাগ ও বিচারপ্রার্থী জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন করার গুরু দায়িত্ব পালন করে আসছে। মিডিয়া বিচার বিভাগ এর বিভিন্ন কার্যক্রম বিষয়ে সময়োপযোগী সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে নিরন্তর সহযোগিতা করে বিচার বিভাগের যুগান্তকারী সংস্কার সাধনে গুরুত্ব ভূমিকা পালন করছে। তবে কিছু কিছু সংবাদপত্র ব্যক্তিগত বিদ্বেষ, একপেশে খবর, অদূরদর্শী এবং পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য নৈতিকতা বিবর্জিত সংবাদ প্রচার করে বিচার বিভাগ তথা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। অনেক সময় মিডিয়া ট্রায়াল এর ফলে বিচারক এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ বিব্রত হয় যা অনভিপ্রেত এবং অনাকাক্সিক্ষত। বিচার বিভাগও ভুল-ত্রুটির উর্দ্ধে নয়। আশা করি, বিচার বিভাগের কার্যক্রম সম্পর্কে সংবাদ ও মিডিয়া  constructive and fairসমালোচনা করবে। বিদ্বেষ প্রসূত হয়ে বিচার বিভাগকে হেয় প্রতিপন্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

প্রধান বিচারপতি বলেন, নারী ও শিশু অধিকার ও মানবাধিকার বিষয়ে আমাদের সমাজ তথা রাষ্ট্র এখনো যথেষ্ট যতœবান নয়। ফলে অহরহ নারী অধিকার ও মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। একটি সভ্য সমাজে যা কোনভাবেই কাম্য নয়। নারীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদাহরণ মূলক এগিয়ে আসলেও এখনো বহু ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। রাষ্ট্রে সমতা বিধানে নারীর সম-অধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। একইভাবে যেখানে যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে তারও প্রতিকার করতে হবে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সংবাদপত্রের ভূমিকা অপরিসীম। সমাজে বিদ্যমান নানাবিধ অসঙ্গতি, অন্যায়-অবিচার, সাফল্য-ব্যর্থতা সংবাদপত্রে প্রতিফলিত হয়। এতে আপামর জনসাধারণের পাশাপাশি সরকার ও দেশ উপকৃত হয়। ডিজিটাল বাংলাদেশে সংবাদ এখন আর নিছক কোন তথ্য নয় বরং বিনোদন ও জ্ঞানের ভান্ডার; পরিবর্তনের অন্যতম হাতিয়ার। অবাধ তথ্য প্রবাহের এ যুগে তাই সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার গুরুত্ব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সাংবাদিকগণ দেশ ও জাতি গঠনে কার্যকরি ভূমিকা রাখবে।

হলুদ সাংবাদিকতা এবং সংবাদপত্রের নেতিবাচক প্রভাব কতটা ভয়ঙ্কর তা যুক্তরাষ্ট্রের ৩য় প্রেসিডেন্ট থমাস্ জেফার্সনের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা থেকে অনুধাবন করা যেতে পারে। জন এডামস্ যখন ২য় প্রেসিডেন্ট তখন থমাস জেফার্সন ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। এডামস্ কে জনগণের নিকট অপ্রিয় তথা ক্ষমতাচ্যুত করার হীন উদ্দেশ্যে জেফার্সন তাঁর সম্পাদক বন্ধু জেমস্ টি. ক্যালেন্ডার-কে এডামস্ এর বিরুদ্ধেবানোয়াট খবর প্রচারে প্ররোচিত করেন এবং তাঁকে ১০০ ডলার ঘুষ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। তদানুযায়ী ক্যালেন্ডার এডামস্ কে হেয় প্রতিপন্ন করে পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। এর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক খবর প্রকাশের জন্য ক্যালেন্ডারকে যখন জেলে নেয়া হয় তখন জেফার্সন ক্যালেন্ডারকে কোনো রকম সাহায্য করতে অস্বীকার করেন এবং তবে জেল থেকে বের হলে তাকে ৫০ ডলার প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করেন এবং ১০০ ডলার পরিশোধের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন। ইতোমধ্যে, এডামস্ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরে গেলে জেফার্সন যুক্তরাষ্ট্রের ৩য় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। জেল থেকে বেরিয়ে ক্যালেন্ডার জেফার্সনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলেন। ১৮০২ সালে তিনি জেফার্সনের বিরুদ্ধে এমন একটি খবর প্রকাশ করেন যা জেফার্সনের সুনাম চিরদিনের জন্য ভুলণ্ঠিতকরে দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকার প্রকাশক মো. তাজুল ইসলাম, এমপির সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এমপি ও পত্রিকার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু সাইদ খান প্রমুখ।

সুত্র:আমাদের সময়.কম