খুলনা, বাংলাদেশ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

খুলনা-কলকাতা ট্রেন, এক মাস আগে টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু

খুলনা কলকাতা রুটে নিয়মিত ট্রেন চলাচল শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে খুলনা স্টেশনের কর্মকর্তাদের নিকট। ওই নির্দেশনায় ট্রেন চালু করা এবং টিকিট কাউন্টার স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত টিকিটের মূল্যসহ আনুসঙ্গিক বিষয় নির্ধারণের কোন নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন খুলনা স্টেশন মাস্টার। বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশীর সহকারি পরিবহন কর্মকর্তা মোঃ নাসির উদ্দিন সাক্ষরিত এক স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৬ নভেম্বর হতে খুলনা-বেনাপোল-কলকাতার মধ্যে একটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। উক্ত ট্রেনের টিকিট একমাস পূর্ব হতেই বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে কারণে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বর্ণিত রুটে আন্তঃদেশীয় ট্রেনের টিকিট বিক্রির জন্য পৃথক একটি কাউন্টার এবং সরঞ্জামাদী স্থাপনের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। এ চিঠির বিষয়ে খুলনা স্টেশনের মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার পূর্বাঞ্চলকে বলেন, চিঠিটি আমরা পেয়েছি। এরপর আমরা স্টেশনের বর্তমান দ’ুটি টিকিট কাউন্টারের পাশে আরও একটি কাউন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী দু’একদিনের মধ্যেই কাউন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে টিকিটের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেননি। তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যে নির্দেশনা পেয়ে যাব। রেলওয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১৮৬৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রেন সার্ভিস চালু হয়। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায় এ পথে ট্রেন চলাচল। পরে এ ট্রেন সার্ভিস চালুর দাবি উঠলেও এতদিন তা’ নানা কারণে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর ৮ এপ্রিল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিল্লি থেকে এ সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে খুলনা-কলকাতা ট্রেন ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস-২’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়। একই সঙ্গে কলকাতা থেকে খুলনা-ঢাকার মধ্যে নতুন যাত্রীবাহী এসি বাস-সেবাও চালু হয়। শনিবার দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে দিল্লি থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ট্রেন ও বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন। এ সময় সেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও উপস্থিত ছিলেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর বেনাপোল ছেড়ে যায় মৈত্রী এক্সপ্রেস। এদিকে এ রুটে এত তাড়াতাড়ি পরিপূর্ণভাবে ট্রেন সার্ভিস চালু করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন খুলনার নাগরিক নেতারা। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফ উজ জামান বলেন, এ রুটে ট্রেন চালু করার বিষয়টি খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। অবশেষে বর্তমান সরকার তা পূরণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই সহজভাবে কলকাতা যেতে পারবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ হবে’।