জালাল উদ্দিন ওমর:
২০১৭ সালের ২০শে জানুয়ারী যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ গ্রহন করেছেন । এর আগে ২০১৬ সালের ৮ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্টের ৫৮তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের নেতা হিসাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন পূর্ব অধিকাংশ জরিপে ডেম্যোক্রাট দলের প্রাথী হিলারি ক্লিনটনের বিজয়ের আভাস প্রকাশিত হলেও, নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছেন। অপরদিকে নির্বাচন পূর্ব অধিকাংশ জরিপে ডোনাল্ড ট্রাম্প পিছিয়ে থাকলে ও, এবং বিতর্কিত বিভিন্ন মন্তব্যের জন্য বেশ বিতর্কিত হলে ও, নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হয়েছেন। এমনকি রিপাবলিকান দলের শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান করা সত্ত্বেও, ট্রাম্পই বিজয়ী হয়েছেন । বরাবরই আমার বিশ্বাস ছিল হিলারি নয় বরং ট্রাম্পই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। বাস্তবে ও সেটাই ঘটেছে । তাই হিলারির এগিয়ে থাকার জরিপে কখনো বিশ্বাস করেনি । মুলতপক্ষে এই নির্বাচনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আদিকাল থেকে চলে আসা কিছু রীতি বহাল রয়েছে । প্রথমত যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন নারী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়নি । এবারো সেটার ব্যতিক্রম হয়নি । অপরদিকে ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই বৃটেনের কাজ থেকে স্বাধীনতা অর্জনকারি যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০ বছরের ইতিহাসে ডেমোক্রাট বা রিপাবলিকান–কোন দলই পর পর তিনবার প্রেসিডেন্ট পদে বিজয় লাভ করেনি। এবার ও সেই নিয়ম অপরিবর্তনীয় রয়েছে । তার মানে যুক্তরাষ্ট্রের লোকজন ঐতিহ্যপ্রিয় এবং তারা ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন । এদিকে ৭০ বছর বয়সে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে একটি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। কারন অতীতে এত বেশি বয়সে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়নি । একইভাবে তিনি আগে কখনো কংগ্রেসম্যান বা সিনেটর ছিলেন না । সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন । প্রেসিডেন্ট পদে ট্রাম্পের বিজয় এবং প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব গ্রহন করার পর থেকেই তার শাসনামল কেমন হবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে । আর অধিকাংশ বিশ্লেষনেই ট্রাম্পের শাসন নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশিত হয়েছে। তবে আর্ন্তজাতিক রাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতির একজন গবেষক এবং বিশ্লেষক হিসাবে এ কথা আমি দৃঢ়তার সাথে বলছি—ট্রাম্পকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করে কোন লাভ নেই । কারন ব্যক্তি এবং দলের পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তেমন কোন পরিবর্তন হয় না । দৃষ্টির গভীরতা আর দৃষ্টির প্রসারতা দিয়ে দেখলে বিষয়টি সবার কাছেই পরিস্কার হবে ।
ডোলান্ড ট্রাম্প এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী । তার রয়েছে বিশাল এক ব্যবসার সাম্রাজ্য । যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পৃথিবীর অনেক দেশেই তার ব্যবসা বানিজ্য রয়েছে । রয়েছে বিশাল নেটওয়ার্ক । তিনি এখন পৃথিবীর একক পরাশক্তি এবং ৯৬ লক্ষের ও বেশী বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম এই দেশটির ৩০ কোটি জনগনের রাষ্ট্রপতি । স্বাভাবিক ভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি । তার ইশারায় বিশ্ব নড়ে এবং তার নির্দেশেই বিশ্ব চলে । এক্ষেত্রে তাকে বাধা দেয়ার শক্তি কারো নেই । সুতরাং তার ইচ্ছাতেই অশান্তি এবং তার ইচ্ছাতেই শান্তি । তার ইচ্ছাতেই দেশে দেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজতন্ত্র আবার তার ইচ্ছাতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দখলদারিত্ব । সুতরাং বিশ্বে শান্তি, গনতন্ত্র এবং সম্প্রতির প্রতিষ্টায় তার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশী । একইভাবে বিশ্বে অশান্তি এবং হানাহানি সৃষ্টির জন্য তিনিই বেশী দায়ী। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, সেখানকার শাসনের গতিপ্রকৃতি এবং পররাষ্ট্রনীতি একটি নির্দিষ্ট নীতিতে পরিচালিত হয় বিধায় আগের দল বা ব্যক্তির গৃহিত পদক্ষেপ পরবর্তী দল বা ব্যক্তির আমলে ও অব্যাহত থাকে। ফলে ফরেন পলিসিতে তেমন কোন পরিবর্তন আসে না এবং বিশ^ব্যবস্থা আগের মতই চলে । তাই যুক্তরাষ্ট্রে কোন দল ক্ষমতায় আসল এবং প্রেসিডেন্ট পদে কে অধিষ্ঠিত হল তা নিয়ে চিন্তা এবং গবেষনা না করে আমাদের উচিত হবে নিজেদেরকে অধিকতর যোগ্য এবং শক্তিশালী করে তোলা । আর এর মাধ্যমেই কেবল নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন এবং ভাগ্য উন্নয়ন সম্ভব । কারন শক্তি হচ্ছে শান্তি এবং নিরাপত্তার গ্যারান্টি । আসুন এবার বাস্তবতার নিরিখে বিষয়গুলোকে একটু পর্যালোচনা করি । দেখুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির ৭০ বছরের ও বেশী সময় পার হয়েছে । কিন্তু সেই ১৯৪৫ সালে জাপান, জার্মানী ও ইতালীর পরাজয়ের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত সেই সব দেশ পুর্নগঠন ও নিরাপত্তার নামে মার্কিনীরা সেখানে যে সৈন্য মোতায়েন এবং ঘাঁটি করেছিল—তা কিন্তু এখনো বহাল আছে এবং সেই সৈন্য প্রত্যাহারের আদৌ কোন সম্ভাবনা নেই । ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগে সমগ্র আরব জাহানে, এমনকি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কোনদেশেই একজন মার্কিন সৈন্য ও ছিল না । কিন্তু আজ ১৬টি মুসলিম দেশে মার্কিন সৈন্যদের ঘাঁটি রয়েছে । এসব দেশ হচ্ছে বাহরাইন, কুয়েত, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, ওমান, আরব আমিরাত, ইয়েমেন, জিবুতি, মিসর, তুরস্ক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও ইরাক । ১৯৯১ সালে কুয়েত মুক্তির নামে এবং সাদ্দামের হাত থেকে সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, আমিরাত প্রভৃতি দেশকে তথাকথিত রক্ষার নামে সেই সব দেশে মার্কিনীরা তখন যে সৈন্য মোতায়েন ও সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্টা করেছিল, কুয়েত মুক্তির ২৫ বছর পেরিয়ে গেলে ও এমনকি তথাকথিত তাদের সেই ভয়ের উৎস সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে ফাসি দিলে ও মার্কিনীরা কিন্তু সেই সব দেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করেনি এবং ভবিষ্যতে ও করবে না । অথচ আজ তো সাদ্দাম নেই। একইভাবে কিউবা এবং ল্যাটিন আমেরিকার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতির ও কোন পরিবর্তন হয়নি । রাশিয়া এবং চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতা ও কমেনি । ৭০ বছরের ও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অকুন্ঠ সমর্থন অব্যাহত আছে । ফলে ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হয়নি । এই দীর্ঘ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বিভিন্ন ব্যক্তিরা এসেছে । কিন্তু ফলাফল একই । ওবামার আমলেও ইরাক আফগানিস্তানে দখলদারিত্ব অব্যাহত ছিল। গুয়ানতানামো কারাগার ও বন্ধ হয়নি । অধিকন্তু ওবামার শাসনামলেই সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে পাঁচ লক্ষ মানুষের প্রানহানি এবং চল্লিশ লক্ষ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে । লিবিয়ায় ন্যাটোর নেতৃত্বে সামরিক আগ্রাসন পরিচালিত হয়েছে । লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফীকে হত্যা করা হয়েছে । লিবিয়া আজ বহু খন্ডে বিভক্ত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র । মিসরের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত এবং সেনাবাহিনীর বর্বর নির্যাতন সবই ওবামার শাসনামলেই হয়েছে । ওবামার আমলেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ হয়েছে । রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ওবামার আমলেও অব্যাহত আছে । তাহলে ওমাবার আমলে ও তো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্টা হয়নি । অতএব শুধু শুধু ট্রাম্পের সমালোচনা করে তো কোন লাভ নেই ।
যে সমস্ত মানুষ ট্রাম্পের বিজয়ে বিশ্বে অশান্তি বাড়ার দুশ্চিন্তায় উদ্বিগ্ন, তাদেরকে বলছি আপনাদের অহেতুক টেনশন করার দরকার নেই । আর এতে কোন লাভ ও নেই । যুক্তির খাতিরে ধরে নিলাম ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন অত্যন্ত খারাপ মানুষ । অতএব তিনি বিশ্বে আগ্রাসন এবং যুদ্ধ ছড়িয়ে দেবেন । তিনি বিশ্বে হানাহানি শুরু করবেন এবং অশান্তির আগুন ছড়িয়ে দেবেন । কিন্তু ট্রাম্প যদি যুদ্ধ বিগ্রহ বাধিয়ে দেন তাহলে সেটা তো নতুন কিছুই নয় । কারন পৃথিবীর দেশে দেশে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন তো চলছেই । বছরের পর বছর ধরে সেটা প্রবাহমান । বাস্তবতা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যটদের মধ্যে মুলতপক্ষে তেমন কোন পার্থক্য নেই । তাই তাদের ক্ষমতারোহন এবং ক্ষমতা থেকে বিদায়ে বিশ্বের রাজনীতিতে কোন প্রভাব পড়ে না । যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৪০ বছরের ইতিহাসকে যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে এর প্রায় অর্ধেক সময় শাসন করেছে রিপাবলিকানরা এবং বাকী অর্ধেক সময় শাসন করেছে ডেমোক্র্যটরা । কিন্তু উভয়ের শাসনামলেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি একই ছিল। সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদ প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে উভয়ের পলিসি একই । কয়েকটি উদাহরন দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে। সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন নির্যাতন চালিয়ে আসছে । এই নির্যাতনের পরিমান ডেমোক্র্যট আর রিপাবলিকান–উভয়ের শাসনামলেই সমান । প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উদারপন্থী হিসাবে বিবেচিত ছিল । অথচ তার আমলে ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি মার্কিন আচরন একই ছিল এবং ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ও ইসরাইলের পক্ষে জাতিসংঘে সবসময় ভেটো প্রয়োগ করেছিল । ক্লিনটনের শাসনামলেই বসনিয়ার মুসলমানদের বিরুদ্ধে সার্বরা চালিয়েছিল ভয়াবহ নির্যাতন এবং হত্যাযজ্ঞ, যাতে কয়েক লক্ষ নিরাপরাধ মুসলমান মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুবরন করেছিল । সেদিন কিন্তু নিরাপরাধ মুসলমানদেরকে বাচাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ কেউই এগিয়ে আসেনি । রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট সিনিয়র বুশ কুয়েত উদ্ধারের নামে ১৯৯১ সালে ইরাকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং সেই সময় কুয়েত এবং সৌদিআরব সহ আরো কয়েকটি উপসাগরীয় মুসলিম দেশে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি গড়েন। পরবর্তীতে ডেমোক্র্যটরা ও তার নেতা ক্লিনটন আট বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকলে ও, তিনি কিন্তু কুয়েতসহ এসব উপসাগরীয় দেশ থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করেনি, ঘাঁটি ও বন্ধ করেনি । বরং সেখানের ঘাঁটিসমুহকে মজবুত করেছে । পাকিস্তান এবং ইরানের পরমানু কর্মসুচীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বরাবরই এক। ইসরাইলকে সমর্থনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও বরারবই এক। তাহলে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্র্যটদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্যটা কোথায় ? এবং প্রকৃতপক্ষে কোনই পার্থক্য নেই। সুতরাং রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যটদের যেই ক্ষমতায় আসুক না কেন এবং ব্যক্তি হিসাবে যেই প্রেসিডেন্ট হউক না কেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি অপরিবর্তনীয় । আর ট্রাম্পের অভিবাসী এবং মুসলিম বিরোধী নীতি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করে তো লাভ নেই । কারন মুসলমানদেরকে সন্ত্রাসী বলা , হিজাবকে কটাক্ষ করা, মুসলিম দেশগুলোতে আগ্রাসন এবং ইসরাইলের প্রতি একনিষ্ঠ সমর্থন –সবই তো আগের প্রেসিডেন্ট গুলোর আমল থেকে চলমান । পার্থক্য শুধু এটাই ট্রাম্পের আগের প্রেসিডেন্টরা সরাসরি মুসলিম বিরোধী কথা বলে নাই আর ট্রাম্প বলছে। কিন্তু কাজের বেলায় সবাই সমান । এটাই হচ্ছে বাস্তবতা এবং সত্যকথা । সুতরাং ট্রাম্পের বিজয় এবং ক্ষমতায় আরোহনে পৃথিবীতে অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে–এমনটি না ভেবে আমাদের উচিত হবে আগামীতে পৃথিবীর নেতৃত্ব দেয়ার জন্য নিজেদেরকে তৈরী করা । আর মুসলমানদের উচিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য এবং সংহতি প্রতিষ্টা করা । তাহলে আর কোন সমস্যা থাকবে না এবং আপনার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে হবে না। কারন আপনার যখন শক্তি থাকবে তখন সবাই আপনাকে স্যালুট করবে। আর যখন দুর্বল থাকবেন তখন সবাই আপনাকে লাথি মারবে । সুতরাং শক্তি অর্জন করুন এবং সামনের দিকে এগিয়ে যান । যুক্তরাষ্ট্রের বৈরিতা সত্ত্বে ও অনেক দেশ কিন্তু নিজেদেরকে যোগ্য করার মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে । চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া, কিউবা, সুদান, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনাম সহ অনেক রাষ্ট্রই তার বাস্তব উদাহরন । সুতরাং ট্রাম্পের শাসনামল কেমন হবে, তার শাসনামলে বিশ্বে অশান্তি বাড়বে—এসব চিন্তা মাথায় নিয়ে টেনশন না বাড়িয়ে বরং নিজের এবং নিজের দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করুন । ট্রাম্পকে নিয়ে না ভেবে নিজেকে নিয়ে ভাবুন । আর এর মাধ্যমে শক্তি অর্জন করুন এবং আগামী দিনের জন্য নিজেদেরকে যোগ্য এবং শক্তিশালী করে গড়ে তুরুন । তাহলেই কেবল বিশ্বব্যাপী শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্টা করা করা সম্ভব ।
লেখক : প্রকৌশলী এবং উন্নয়ন গবেষক ।
খুলনাটুডে.কম | খুলনা বিভাগের সকল সংবাদ সবার আগে