খুলনা, বাংলাদেশ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

Warning: Attempt to read property "post_excerpt" on null in /home/khulnatoday/public_html/wp-content/themes/sahifa/framework/parts/post-head.php on line 73

রোহিঙ্গারা ও মানুষ : ওদের একটু বাচঁতে দিন    

জালাল উদ্দিন ওমর:

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ওপর  ভয়াবহ নিযার্তন চলছে। সেখানকার উগ্রপন্থী কিছু বৌদ্ধ বছরের পর বছর ধরে রোহিঙ্গা বলে পরিচিত এসব মুসলমানদেরকে নির্যাতন করেই চলেছে। আর সেখানকার সরকার বৌদ্ধদের এসব কর্মকান্ডকে নিরবে সমর্থন করছে । সেখানে আজ যা চলছে তা জাতিগত নিধন ছাড়া আর কিছুই নয় । কোন ধরনের অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি না করে, সেখানকার মুসলমানদেরকে হত্যা করা হচ্ছে,  ঘরবাড়ি জালিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বাঁচার তাগিদে ঘরবাড়ি ছেড়ে, নিজ দেশ ছেড়ে  হাজারো রোহিঙ্গা আজ ভিন দেশের রাস্তায় হাটছে। কখনো বা নৌকা, কখনো বা ভেলায় চড়ে জীবন বাজি রেখে হাজারো রোহিঙ্গা অন্য দেশে চলে যাচ্ছে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে। ভিন দেশে প্রবেশের জন্য এসব মানুষেরা কখনো পাড়ি দিচ্ছে সাগরের উত্তাল জলরাশি, কখনো পাড়ি দিচ্ছে পাহাড়ি জঙ্গলের কন্টকার্কীন পথ আবার কখনো পাড়ি দিচ্ছে সীমান্তের কাটা তারের বেড়া। ওরা রোদের গরমে পুড়ছে, বৃষ্টির পানিতে ভিজছে আর রাত্রে খোলা আকাশের নীচে ঘুমাচেছ। ভয়ংকর এবং বিপদসংকুল এই যাত্রাপথে ইতিমধ্যেই অনেক রোহিঙ্গা প্রান হারিয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরাট একটি অংশ আজ উদ্বাস্ত এবং শরনার্থী। যাদের এক সময় অর্থ বিত্ত আভিজাত্য সবই ছিল, তারা আজ তাবুর ঘরে বাস করছে। কারো কারো দিন কাটছে সম্পুর্ন খোলা আকাশের নীচে। আবাল বৃদ্ধ বনিতা সবাই আজ বিপদগ্রস্থ। বেচেঁ থাকার মৌলিক কোন উপাদানই এদের জীবনে বিদ্যমান নেই। অন্ন,বস্ত্র,বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা–কিছুই নেই। এদের জীবনে বিদ্যুত, বিনোদন এবং স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নেই। একজনের জায়গায় দশজন বাস করছে। রোহিঙ্গাদের জীবনে আজ সুখ, আনন্দ আর শান্তি বলতে কিছুই নেই। ওদের জীবনে কোন স্বপ্ন এবং সুন্দর ভবিষ্যতের হাতছানি নেই। প্রান আছে বলেই বেঁচে আছে আর কি। মিয়ানমারের উগ্রপন্থী কিছু মানুষের নির্যাতন আজ লাখো রোহিঙ্গার জীবনকে শেষ করে দিয়েছে। এসব মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতে আজ সবাই ব্যর্থ। জাতিসংঘ, ওআইসি, আরবলীগ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, আসিয়ান, সার্ক, আফ্রিকান ইউনিয়ন, জি-৭সহ সবাই ব্যর্থ। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, বৃটেন, ফ্রান্স, চীনও ব্যর্থ। ব্যর্থ পুরো মানবজাতি এবং ব্যর্থ মানবাধিকারের প্রবক্তারা। এরা সবাই আজ নীরব দর্শকের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এই ব্যর্থতা পুরো মানবজাতির জন্য লজ্জ্বা ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা মানবতারই লজ্জ্বা। কিন্তু মনে রাখা দরকার রোহিঙ্গা বলে পরিচিতরা ও মানুষ। আমার আপনার মত বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার ওদের ও রয়েছে । অতএব ওদেরকে একটু বাচঁতে দিন ।

Rohingya Killing
Rohingya Killings

বাংলাদেশের প্রতিবেশী মিয়ানমার ১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী বৃটেন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং তখন এর নাম ছিল বার্মা । আর ১৯৬২ সাল থেকেই সেখানে সেনাবাহিনীর শাসন চলছে । বাংলাদেশ সীমান্তের পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রায় ১৫ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। শতাব্দীর পর শতাব্দীর ধরে তারা সেখানে বসবাস করছে। প্রায় হাজার বছর আগে রাখিয়াং নামে এক জাতি ইসলাম গ্রহন করে রোহিঙ্গা নাম নিয়ে মিয়ানমারে বসতি স্থাপন করে। সেই থেকেই রোহিঙ্গা বলে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাস করে আসছে । অথচ মিয়ানমার সরকার এখন রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত করছে। ১৯৮২ সালের আগ পর্যন্ত এই রোহিঙ্গারা ভোট দিতে পারত এবং তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেশটির সংসদে পাঠাত। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৮২ সালের ১৫ই অক্টোবর ”বার্মিজ সিটিজেনশীপ ল” নামে একটি আইন পাশ করে এবং এতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। তখন থেকেই রোহিঙ্গারা রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠীতে পরিনত হয়। ২০১৪ সালের আদম শুমারিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাদ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মিয়ানমার সরকারের ভাষ্য মতে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয়। ফলে রোহিঙ্গারা এখন একটি রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠীতে পরিনত হয়েছে।  এরকম নির্যাতিত, অবহেলিত, অধিকারহীন এবং রাষ্ট্রহীন জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে আর একটি ও নেই । এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা পৃথিবীতে আর একটি ও নাই । মিয়ানমারের বৌদ্ধদের হাতে বছরের পর বছর ধরে নির্যাতিত হবার কারনে ইতিমধ্যেই প্রায় অর্ধেক রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। দুই দশকের ও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হিসাবে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বাস করছে। কক্সবাজার জেলার উখিয়ার কুতুবপালং এবং টেকনাফের নয়াবাজার শরানার্থী শিবিরে প্রায় ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করে এবং তারা খুবই মানবেতর জীবন যাপন করে। এছাড়া উখিযার লেদা এবং টেকনাফের টাল মেকশিপ্ট ক্যাম্পেও অনেক রোহিঙ্গা বসবাস করে। বাকীরা চট্রগ্রাম, ককসবাজার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করছে। মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচি শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পেলেও, রোহিঙ্গাদের প্রতি পরিচালিত নির্যাতন বন্ধে তিনি বরাবরই ব্যর্থ হয়েছেন। দু:খজনক হলে ও সত্য, অং সান সুচি এই ইস্যুতে একেবারই নীরব। তার এই নীরবতা রোহিঙ্গাদের প্রতি চলমান নির্যাতনকে উস্কে দিয়েছে।

রোহিঙ্গা বাড়ী জালিয়ে দেওয়া
রোহিঙ্গা বাড়ী জালিয়ে দেওয়া

যাদেরকে নিয়ে ওপরের কথাগুলো বলেছি, তারা কিন্তু পৃথিবী নামক আমাদেরই গ্রহের বাসিন্দা। তারা এই সভ্য দুনিয়ারই বাসিন্দা, যেখানে আকাশ চুম্বি অট্রালিকা আর বিদ্যুতের জমকালো চমকানিতে চোখ দিশা হারিয়ে ফেলে। যেখানে বিনোদনের জন্য খেলা, নাটক, সিনেমা আর গানের পিছনে বিলিয়ন ডলার খরচ করে। অথচ এই সব বনি আদম আজ র্সবহারা। রোহিঙ্গা বলে পরিচিত এসব মুসলিম জনগোষ্ঠী আমার আপনার মতই রক্ত মাংসে গড়া মানুষ। তাদের জীবনে ও আমাদের মত চাওয়া পাওয়া রয়েছে। সুতরাং সবার মতই রোহিঙ্গাদেরও কিছু মৌলিক অধিকার আছে। প্রত্যেক মানুষেরই কতকগুলো মৌলিক অধিকার থাকে, যা যে কোন দেশের, যে কোন ধর্মের এবং যে কোন নাগরিকের বেলায় সমভাবে প্রযোজ্য। বিশ্বব্যাপী মানুষের এই মৌলিক অধিকার সমুহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে মানব সমাজে শান্তি প্রতিষ্টার জন্য ১৯৪৮ সালের ১০ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারন পরিষদ সার্বজনীন মানবাধিকারের নীতিমালা গ্রহন করে। সেই থেকে ১০ই ডিসেম্বর প্রতিটি বছর বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছে। আর মানুষের মৌলিক মানবাধিকারকে নিশ্চিত করাই এর মুল লক্ষ্য। জাতিসংঘ ঘোষিত সার্বজনীন মানবাধিকারের এই ঘোষনাপত্রে বিভিন্ন উপধারা সহ মোট ৩০ (ত্রিশ)টি মুলধারা সংযুক্ত করা হয়। এই ঘোষনা পত্রে -আইনের দৃষ্টিতে সকলের সমান অধিকার, জাতীয়তা লাভের অধিকার,  চিন্তা-বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার অধিকার, স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার, সভা সমাবেশ করার অধিকার, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নিজ দেশে সরকারে অংশ গ্রহনের অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের অধিকার, সকলের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার এবং সর্বোপরি শাসনতন্ত্র বা আইন কর্তৃক প্রদত্ত মৌলিক অধিকার লংঘিত হলে বিচার বা আদালতের মাধ্যমে তার কার্যকর প্রতিকার লাভের অধিকারের কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের এইসব মুলনীতি বিশ্বের দেশ সমুহ গ্রহন করেছে । স্বাভাবিক ভাবেই পৃথিবীর প্রতিটি দেশে বসবাসরত প্রতিটি জনগোষ্ঠীর এবং প্রতিটি নাগরিকেরই স্বাধীন ভাবে বেচেঁ থাকার, মত প্রকাশের এবং রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে । একজন মানুষ হিসাবে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার সকল অধিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ও রয়েছে। এখানে ধর্ম, বর্ণ এবং গোত্রীয় ভাবে কাউকে চিহ্ণিত করে, তাদেরকে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অধিকার কারো নেই। যদি করা হয় তাহলে সেটা গনতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের সুষ্পষ্ট লংঘন ।

বিতাড়িত রোহিঙ্গা
বিতাড়িত অনাহারী রোহিঙ্গা

বাংলাদেশে বসবাসরত রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমার আর ফেরত নিতে ইচ্ছুক নয়। অপরদিকে এই সব রোহিঙ্গারা ও নির্যাতনের ভয়ে মিয়ানমারে ফেরত যেতে রাজী নয়। নিজ দেশের জনগনের জানমালের নিরাপত্তা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাটা যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র এবং সরকারের নৈতিক দায়িত্ব, সেখানে মিয়ানমারের সরকার আজ সেখানকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয় রোহিঙ্গাদেরকে পাইকারী ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদেরকে জাতিগত ভাবে নির্মূল করা হচ্ছে। এই অবস্থায় রোহিঙ্গা সংকট রাংলাদেশের জন্য একটি স্থায়ী সমস্যা সৃষ্টি করেছে । রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ী ভাবে আশ্রয় দেবার মত শক্তি সামর্থ্য আমাদের নাই এ কথা নিরেট সত্য। কিন্তু এর পরও শুধু মাত্র প্রাণে বাঁচানোর জন্য হলে ও, বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের সাময়িক সময়ের জন্য আশ্রয় দিতে হবে। কারন এটা একটা মানবিক বিষয়। এখানে ধর্ম, বর্ণ এবং গোত্র বিবেচনার বিষয় নয়। অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশেই জন্ম গ্রহন করেছেন, বাংলাদেশেই বড় হয়েছেন এবং এদেশেই বিয়ে শাদী করে সংসার করছেন। এরা অনেকটাই এদেশের মানুষের সাথে মিশে গেছে। একথা সত্য যে অনেক রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত হয়েছে। তাদেরকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শাস্তির আওতায় আনা হ্উক। কিন্তু শুধুমাত্র এই কারনে  রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় প্রদান বন্ধ করা মোটেই উচিত হবে না । কারন এই রোহিঙ্গাদের জীবনই আজ বিপন্ন। সুতরাং আগে ওদের জীবন বাচাতেঁ হবে। এছাড়া রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আর্কষনের জন্য ও বাংলাদেশকে কাজ করতে হবে। আমি জাতিসংঘ সহ সকল আর্ন্তজাতিক সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া সহ সকল বৃহৎ রাষ্ট্রকে মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদেরকে সহযোগিতা করার এবং এই সংকটের একটি স্থায়ী এবং গ্রহন যোগ্য সমাধান করার জন্য বিনীত আবেদন জানাচ্ছি। বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্বে নিয়োজিত এইসব শক্তি এবং রাষ্ট্রকে আজ মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ।

Rohingya Killings
Rohingya Killings

পরিশেষে একজন মানুষ হিসাবে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত গনহত্যা এবং নির্যাতন এই মুহুর্তেই চিরতরে বন্ধ করার জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহবান জানাই । একই সাথে মিয়ানমারের প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচির প্রতি ও আহবান জানিয়ে বলছি,  আপনি অনুগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ নিন। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত এইসব নির্যাতন কোন সভ্য সমাজে কল্পনা ও করা যায় না। কোন বিবেকবান মানুষ এ ধরনের বিবেকহীন কাজ করতে পারে না । আর একটি কথা বলতে চাই, তা হচ্ছে কিছু মানুষকে হত্যা করে কখনো একটি জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করা যায় না। জাতিগত বিভেদ এবং সাম্প্রদায়িকতার দেয়াল সৃষ্টি করে কখনো একটি সমাজে এবং রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্টা করা যায় না। একইভাবে একটি সমাজ এবং রাষ্ট্রকে শান্তি এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া যায় না । সুতরাং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিন এবং তাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন । বিদেশের মাটিতে শরনার্থী হিসাবে বসবাসরত রোহিঙ্গাদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনুন এবং তাদেরকে নিজ বসত ভিটায় নিরাপদে বসবাস করতে দিন । রোহিঙ্গাদেরকে সাথে নিয়েই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন । এতেই মিয়ানমারের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে ।

লেখক : প্রকৌশলী এবং উন্নয়ন গবেষক ।