খুলনা, বাংলাদেশ | ৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

Warning: Attempt to read property "post_excerpt" on null in /home/khulnatoday/public_html/wp-content/themes/sahifa/framework/parts/post-head.php on line 73

ঈদ কাটে বৃদ্ধাশ্রমে

অনলাইন ডেস্ক:

আবু তৈয়ব (৭২)। জন্মস্থান নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ। ১৯৭১ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদফতরে (পিডাব্লিউডি) চাকরি করেছেন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। জীবনে অনেক টাকা পয়সা আয় করেছেন তিনি। তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে বড় করেছেন।

কেউ সরকারি চাকরি করেন, কেউবা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে এই বয়স্ক মানুষটির স্থান হয়েছে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় প্রবীণ নিবাস ও হাসপাতালে।

এই হাসপাতালটি বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান নামে পরিচিতি।

শেষ বয়সে এই প্রতিষ্ঠানের ৫১০ নম্বর কক্ষে দিন কাটে আবু তৈয়বের। ছিমছাম, শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ। এখানে যে মানুষ থাকে বাইরে থেকে তা বোঝার উপায় নেই।

তারপরও পরিবার পরিজন ছাড়া খুবই কষ্টে দিন কাটছে বৃদ্ধার। পরিবারের অন্য সদস্যরা সেইভাবে যোগাযোগও করে না। প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা এই প্রতিষ্ঠানে থাকা ও খাওয়া বাবদ পরিশোধ করতে হয়।

ঈদ কেমন কাটলো এমন প্রশ্নের জবাবে আবু তৈয়ব বাংলানিউজকে বলেন,  ছেলে-মেয়েরা খোঁজ খবরও নেয়নি। ঈদের দিন ছোট ছেলেকে মিস কল দিয়েছিলাম। ফোনে কথা হয়েছে। তারা আর আমাকে বাবা বলে ডাকে না। বাবা ডাকলে মনে হয় ওদের সম্মান যাবে। ছেলে-মেয়েরা এখন নিজেরা নিজের মতো করে মায়ের সঙ্গে থাকে।

৫১০ নম্বর রুমে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় আবু তৈয়বের সঙ্গে। অধিকাংশ সময় বই পড়ে ও লেখালেখি করে সময় কাটে তার। হাতের লেখাও দেখতে অসাধারণ। নিজের কিছু ভুলের কারণে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয়েছে বলে জানান আবু তৈয়ব। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের নাম বলতে রাজি হননি তিনি।

নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে দুই শ্যালককে লেখাপড়া করিয়েছেন। এমনকি সাভারে নিজের টাকায় কেনা এক বিঘা জমিও দুই শ্যালকের নামে লিখে দিয়েছেন। বাবা-মা হারা শ্যালককে নিজের সন্তানের মতো বড় করেছিলেন। এখন শ্যালকরাও কোনো খোঁজ খবর নেয় না।

অন্যদিকে তিন ভাতিজা-ভাতিজিকে নিজের টাকা খরচা করে পড়াশুনা করিয়েছিলেন। তারাও এখন বড় অফিসে চাকরি করে, প্রাইভেট কারে চেপে চলাফেরা করে, অথচ খোঁজ খবর রাখে না। এমনকি বউয়ের নামে সাভারে দেড় বিঘা জমি দিয়েছেন।

এখন বৃদ্ধাশ্রমে থাকেন আবু তৈয়ব। অন্যদিকে বউ ও ছেলে মেয়েরা এক সঙ্গে সাভারে বসবাস করে।

আবু তৈয়ব বাংলানিউজকে বলেন, বৃদ্ধাশ্রমে তিন মাসের টাকা বাকি হয়েছে শোধ করতে পারছি না। কেউ কোনো খোঁজ খবরও নিচ্ছে না।

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটি ছিল প্রবীণ নিবাসেও। বাইরের গেটে তালা লাগানো। নিজের পরিচয় দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেলো বৃদ্ধা-বৃদ্ধের রকমারি জীবন কাহিনী।

কেমন আছেন? জিজ্ঞেস করতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন সত্তরোর্ধ বৃদ্ধ মুজিবুল হক (৭৬)। জন্মস্থান যশোর সদর। ঢাকায় অনেক নাম করা প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল ছিলেন।

জীবনের উপার্জন দিয়ে ছেলে-মেয়েদের বড় করে তুলেছেন। প্রবীণ নিবাসে থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানে নিরিবিলি থাকা যায়, শান্তিতে থাকা যায়। আমি এখানে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করি।

সমাজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বৃদ্ধদের বেঁচে থাকাও সমাজ ভালো চোখে দেখে না। আমাদের প্রতি সমাজের অবহেলা বেড়েই চলেছে। আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে।

শিক্ষক হিসেবে এক সময় উত্তরা এয়ারপোর্টের কাছে পাঁচ কাঠা জমি পেয়েছিলেন। এখন সেখানে তিনটা অ্যাপার্টমেন্টও আছে। অথচ বৃদ্ধাশ্রমে একাকী দিন কাটছে এক সময়ের নামকরা প্রিন্সিপাল মুজিবুল হকের।

তিনি বলেন, এখানে ভাড়াটা অনেক বেশি। একটু কম হলে আমাদের জন্য ভালো হতো।

আপনার ছেলে-মেয়েরা কী করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শুধু আমার কথা বলতে চাই। কারোর কোনো কথা বলার ইচ্ছা আমার নাই।

সুত্র:বাংলানিউজ২৪.কম