খুলনা, বাংলাদেশ | ৩০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আন্দোলনের বিকল্প নেই-খালিশপুরে জনসভায় বক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খালিশপুরে জনসভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনেও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হয়নি। একই সাথে শ্রমিকরা নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরিও পাচ্ছে না। ফলে আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন অতিবাহিত করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই।

শুক্রবার সন্ধ্যায় খালিশপুর পিপলস গোল চত্বরে বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ আয়োজিত শ্রমিক জনসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

এ জনসভায় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন ও বকেয়া মজুরিসহ ৯ দফা দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, খালিশপুর, দৌলতপুর, স্টার, আলিম, ইস্টার্ন এবং যশোরের কার্পেটিং ও জেজেআই জুট মিলের সিবিএ নেতা ও শ্রমিকরা এ জনসভায় অংশগ্রহণ করেন।

আন্দোলন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল সোমবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রাজপথে লাল পতাকাসহ লাঠি মিছিল, আগামী ২, ৩ ও ৪ এপ্রিল মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা ৭২ ঘন্টা পাটকল ধর্মঘট এবং প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চার ঘন্টা করে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ। এছাড়া এ সময়ে দাবি বাস্তবায়িত না হলে আগামী ৭ এপ্রিল ঢাকায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাটকল শ্রমিকলীগ ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে পরবর্তী কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

গতকাল জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মোঃ মুরাদ হোসেন।

প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সরদার মোতাহার উদ্দিন।

প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা মোঃ সোহরাব হোসেন, ফরাজী নজরুল ইসলাম, শেখ আব্দুল মান্নান, মোঃ হুমায়ুন কবির খাঁন, শাহানা শারমিন, আব্দুল হামিদ সরদার, মোঃ জাকির হোসেন, মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন আজাদী, শেখ মোঃ ইব্রাহিম, মোঃ বেল্লাল মল্লিক, মোঃ আলাউদ্দিন, মোঃ সাইফুল ইসলাম লিটু, সেলিম আকন্দ, দ্বীন মোহাম্মদ, দ্বীন ইসলাম, কাওসার আলী মৃধা, পান্নু মিয়া, মোঃ আবু জাফর, সরদার আলী আহমেদ, মোঃ খলিলুর রহমান, মোঃ সেলিম শিকদার, মোঃ আক্তার হোসেন, মোঃ আনিসুর রহমান, মোঃ শওকত মোড়ল, চৌধুরী মিজানুর রহমান মানিক, মোঃ ইয়াজদানী ও মোঃ মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

পাটকল শ্রমিক নেতারা জানান, ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, নিয়মিত সাপ্তাহিক মজুরি ও বেতন প্রদান, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক কর্মচারীদের পিএফ-গ্রাচ্যুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, টার্মিনেশন ও বরখাস্ত শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, সেটআপ অনুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ ও স্থায়ী করা, পাট মৌসুমে পাট কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা প্রভৃতি।

তারা জানান, ৬/৮ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া থাকায় শ্রমিকরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।