খুলনা, বাংলাদেশ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

প্লাটিনাম জুট মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, উৎপাদন বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টারঃ দুই কোটি টাকারও বেশি বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় নগরীর খালিশপুরস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানী-ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ। এতে মিলটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিক কলোনীর পানি সরবরাহও বন্ধ হয়ে গেছে। রাতে গোটা এলাকা ছিল অন্ধকারাচ্ছন্ন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে শ্রমিক উত্তেজনা দেখা দেয়। শ্রমিকদের শান্ত করে ওজোপাডিকোর সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাপ করেন মিলের প্রকল্প প্রধান। কিন্তু টাকা ছাড়া কোন অবস্থাতেই বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে নারাজ ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ওজোপাডিকোর সর্বোচ্ছ কর্তা অর্থাৎ ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো: শফিক উদ্দিন ঢাকায় অবস্থান করায় গোটা দায়ভার এসে পড়েছে প্রধান প্রকৌশলী মো: হাসান আলী তালুকদারের ওপর। এমনকি মিলের প্রকল্প প্রধান মজিবর রহমান মল্লিক গতকাল ওজোপাডিকোর এমডির সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনিও প্রধান প্রকৌশলীর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
প্লাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মজিবর রহমান মল্লিক বলেন, বর্তমানে মিলে শ্রমিকদের ছয় সপ্তাহের ও কর্মচারীদের দু’মাসের মজুরী-বেতন বকেয়া রয়েছে। সম্প্রতি কিছু পাটপণ্য বিক্রি হলেও টাকা পাওয়া যায়নি। যা পাওয়ার পরই বকেয়া বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য পাওনা কিছু কিছু করে পরিশোধের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ গতকাল সকাল থেকে কোন অনুরোধ না রেখেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মোঃ হাসান আলী তালুকদার বলেন, বিগত ৪ মাসের ২ কোটি ১৮ লাখ টাকা বকেয়া বিল রয়েছে প্লাটিনাম জুট মিলের কাছে। কয়েকবার মিল কর্তৃপক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ মুজিবর রহমান মল্লিক বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার জন্য ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলীর কাছে তিনি অনুরোধ করেছেন। তিনি আগামী দশ দিনের মধ্যে অর্ধেক ও ঈদুল আযহার মধ্যে সম্পুর্ন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ তার অনুরোধ রাখেননি। বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিক কলোনীতে ভূতুড়ে পরিবেশের সৃস্টি হয়েছে। শ্রমিকরাও প্রচন্ড ক্ষীপ্ত হয়েছে ওজোপাডিকোর উপর।