এএইচ জুয়েল, তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতাঃ বর্ষাকালীন ফসল পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। সোনালী আঁশ নামে পরিচিত এ ফসলটি অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছে বর্হিবিশ্বে। দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক বাণিজ্য রপ্তানির মাধ্যমে অর্থ আয় করে থাকেন আমাদের কৃষকরা। স্বল্প পরিশ্রম আর অল্প অর্থ ব্যয়ে সহজে এ ফসলটি উৎপাদনের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করা সম্ভব হওয়ায় তালার কৃষকের মুখে হাসি ফুটাতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ বছর তালায় পাটের ফলন ভাল হলেও কমেছে এর চাষাবাদ ।
অনুকূল আবহাওয়া আর ফসলি ক্ষেতে জলাবদ্ধতা না থাকায় এ বছর অধিকাংশ কৃষক পাট চাষে বেশ বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তালা উপজেলার সর্বত্র পাট কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে কিছু দিন আগে অতি বৃষ্টির কবলে পড়ে নিচু এলাকার জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সঠিক পরিপক্কতা না পাওয়ায় বিনষ্টের সম্ভাবনায় আগে ভাগেই পাট গাছ কাটা শুরু করে দিয়েছে। এ অঞ্চলে সাধারণত ২ ধরনের পাট চাষ হয়ে থাকে। লাল জাতের পানি সহনশীল ও সাদা জাতের উচু জমিতে এ বীজ বপণ করা হয়। আমাদের কৃষকরা বৈশাখ জৈষ্ঠ্য মাসে জমিতে চাষ দিয়ে বীজ বপণ করেন। এক একটি পাট গাছ সাধারণত ১০/১২ হাতের অধিক লম্বা হয়ে থাকে।
উপজেলার আড়ংপাড়া গ্রামের পাট চাষি জাহিদ শেখ বলেন, রোদ বৃষ্টিতে ভিজে-পুড়ে আমার মতো কৃষকরা তাদের সোনালী আঁশ ঘরে তোলার আশায় বুক বাধেন। এ বছর পাটের ভাল ফলন হয়েছে।
পাট ব্যবসায়ী আব্দুল বারি জানান, এ বছর পাট চাষের বেশ ভালো ফলন হয়েছে। পাটের আধা বয়স হতেই অনেক কৃষক আমাদের নিকট হতে অগ্রিম টাকা নিয়েও গেছে। এ বছর কৃষকরা সঠিক ন্যয্য মুল্যে তাদের পাটের দাম পাবেন বলে আশা করছি ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবছর তালা উপজেলায় ২৮০০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষাবাদ হচ্ছে। যা গতবছরের তুলনায় ২১০ হেক্টর কম। পাট চাষিদের জন্য এ বছর কোন প্রকল্প ছিল কিনা জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সামছুল আলম বলেন, পাট আমাদের দপ্তরের বিষয় না সুতরাং পাট চাষিদের প্রকল্প আমাদের কাছে আসেও না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাট চাষিদের সাথে সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকারি কোন সহযোগিতা বা পরামর্শ কোনটাই পাননা তারা। পাটচাষীদের পরামর্শ বা উদ্বুধ করার অভাবে দিনদিন এর চাষাবাদ কমে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রান্তিক এলাকার পাটচাষিরা।