এএইচ জুয়েল,তালা(সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ ॥ সরকারি হাসপাতালের পর গরীব-অসহায় মানুষের স্বাস্থ্য সেবায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক। শুধু এখানেই শেষ নয় বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে স্বাস্থ্য পীড়িত মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায় ক্লিনিকটি। প্রায় ১৫ বছর আগে তালা সদরে প্রতিষ্ঠিত হাঁটি হাঁটি পা-পা করে প্রতিষ্ঠানটি আজ একটি আধুনিক স্বাস্থ্য সেবার নাম।
এ্যাপেন্ডিক্স থেকে শুরু করে সিজার, পিত্ত পাথর, হার্নিয়া, গ্যাষ্ট্রিক-আলসার, কিডনি পাথর, অভারিয়ান, হাইড্রোসিল, ব্রেষ্ট টিউমার ,নরমাল ডেলিভারী, প্রোস্টেট, ইউট্রিয়াস অপারেশন সহ বিভিন্ন চিকিৎসায় অসহায় মানুষের এক অবলম্বনের নাম তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক।
সরকারী নিয়মানুযায়ী,উপজেলা পর্যায় ক্লিনিক প্রতি ১০ টি বেড, ১ জন সার্জন, ১ জন আবাসিক মেডিকেল অফিসার, ১ জন ডিপ্লোমা সহ ৫ জন নার্স, প্রশিক্ষিত ওয়ার্ডবয়সহ সকল নিয়ম মেনেই চলছে ক্লিনিকটি। ক্লিনিকটিতে নিয়মিত রোগী দেখেন ও অপারেশন করেন ডাঃ শরিফুল ইসলাম, ডাঃ জ্যোতির্ময় সরকার, ডাঃ রাজীব সরদার, ডাঃ বন্যা দাশ, এছাড়া সেখানে সার্বক্ষণিক ডিউটি করেন ডাঃ রুহুল আমিন। রোগীদের সাথে ভাল আচরণ থেকে শুরু করে সুষ্ঠু চিকিৎসা সেবায় তারা এখন প্রথম সারিতে অবস্থান করায় এলাকার অন্যান্য ক্লিনিক থেকে শুরু করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। এমনকি তাদের দাবি অনুযায়ী সুবিধা প্রদান না করায় বিভিন্ন যায়গায় মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র দেখতে গতকাল সরেজমিন তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে কথা হয় তালার মদন পুরের রাবেয়া খাতুনের সাথে। তিনি একজন সিজারিয়ান রোগী। স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কথা হয় উপজেলার পাঁচরুখীর হালিমা বেগম(৩৮) হাজরা কাঠির অঞ্জনা রাণী জাতপুরের শের আলী বিশ্বাসসহ বিভিন্ন সমস্যায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের সাথে। এসময় ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার, কম্পিউটারাইজড ইসিজি রুম, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, অত্যাধুনিক আলট্রাসনোগ্রাফি থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পদচারণা রয়েছে তাদের।
এদিকে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের অভাবনীয় ধারাবাহিক সাফল্যে লাটে উঠতে বসেছে স্থানীয় কতিপয় ক্লিনিকের মূল ব্যবসা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা বিভিন্ন লবিষ্ট নিয়োগ করে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ ক্লিনিকটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে। কতিপয় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদও পরিবেশন করিয়েছেন। এতে রীতিমত এলাকার রোগী সাধারণ থেকে শুরু করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনরা।
এব্যাপারে ক্লিনিক মালিক বিধান চন্দ্র রায়ের নিকট ক্লিনিকের লাইসেন্স আছে কিনা বা সরকারি নিয়ম নীতির বাইরে কোন অপ চিকিৎসা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের সব বিধি নিষেধ মেনেই তিনি ক্লিনিক পরিচালনা করছেন। তার ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন নং-১৯৬৭। চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্ঠ এলাকাবাসীর রোগীর চাপ সবসময় থাকে। যাদের অনেককে সময় ও বেড স্বল্পতায় কিৎিসা করাতেও ব্যর্থ হন তিনি বলে জানান ক্লিনিক মালিক বিধান চন্দ্র রায়।
এদিকে রোগী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্লিনিকটিতে পর্যাপ্ত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। মফস্বল উপজেলা সদরে বে-সরকারি ক্লিনিকে আধুনিক সব চিকিৎসা ব্যবস্থায় রীতিমত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ এলাকাবাসী।