দেশের ৬৮ হাজার ৭৬০ হেক্টর চাষযোগ্য জমি বছর অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। খুলনা বিভাগে প্রতিবছর অকৃষি খাতে চলে যাওয়া জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৯৬ হেক্টর। মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) ‘বাংলাদেশের কৃষি জমি বিলুপ্তির প্রবণতা’ শীর্ষক সাম্প্রতিক গবেষণায় এমন তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৭৬২ মিলিয়ন হেক্টর। গত ৪০ বছরের এ জমির পরিমাণ কমেছে গড়ে ১ দশমিক ২৪২ মিলিয়ন হেক্টর।
বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চাষযোগ্য জমি রয়েছে মাত্র ৮০ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর। এর একচতুর্থাংশই এখন হুমকির মুখে। বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, বছরে বাড়ছে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। দিনে ২২০ হেক্টরের বেশি কৃষি জমি অকৃষি খাতে যাচ্ছে। বছরে কমছে ৮২ হাজার হেক্টর জমি, যা মোট জমির এক ভাগ। এসআরডিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী খুলনা বিভাগে ১১ হাজার ৯৬ হেক্টর, চট্টগ্রাম বিভাগে প্রতিবছর ১৭ হাজার ৯৬৮ হেক্টর, রাজশাহী বিভাগে ১৫ হাজার ৯৪৫ হেক্টর, ঢাকায় ১৫ হাজার ১৩১ হেক্টর, রংপুরে ৮ হাজার ৭৮১ হেক্টর এবং বরিশালে ৬ হাজার ৬৬১ হেক্টর জমি প্রতিবছর অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। কৃষি জমি অকৃষি খাতে যাওয়ার পেছনে প্রধানত জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেই দায়ী করছেন বিশিষ্টজনেরা। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুসারে সারাদেশে বসতবাড়ির সংখ্যা ছিল দুই কোটি সাড়ে ৪৮ লাখ। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে বসতবাড়ির সংখ্যা দাঁড়ায় তিন কোটি ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৩০। বসতবাড়ি এলাকার পরিমাণ ১৯৯৬ ও ২০০৮ সময়ে তিন লাখ ৫২ হাজার একর থেকে বেড়ে ছয় লাখ ৭৭ হাজার একরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ‘বিশ্ব উন্নয়ন সূচক ২০০৯’ এতে বলা হয়, ১৯৯০ সালে দেশের ২০ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করত। এখন সেই সংখ্যা ত্রিশের উপরে। উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরের সংখ্যা বাড়ছে। সম্প্রসারিত হচ্ছে অবকাঠামো সুবিধাও।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের এক গবেষণায় বলা হয়, ১৯৭২ ও ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫৬ একর জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে। এ খাতে চলে যাওয়া জমির মধ্যে ঘরবাড়ি নির্মাণ হয়েছে ৬৪ হাজার ৪৮৯ একর জমিতে। দোকান নির্মাণ হয়েছে ৬ হাজার ২৬২ একর জমিতে। কলকারখানা নির্মাণ হয়েছে ২২২ একর জমিতে। বিদ্যালয় দুই হাজার ৮২৭ একর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ৪৯৯ একর ও মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এক হাজার ৯৯৯ একর জমিতে। ভূমি মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে ‘কৃষিজমি সংরক্ষণ আইন’ বলে একটি খসড়া করে। মূলত পাহাড় কাটা বন্ধ এবং অবৈধ দখল থেকে খাস কৃষিজমি সংরক্ষণ করতেই ২০০৯ সালে ভূমি ব্যবহার আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এটা কেউ অমান্য করলে ২ বছরের কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন। কৃষিজমি সংরক্ষণ আইনটির সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানাতে গিয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, আইনটিতে মন্ত্রিসভা নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এখন এটি আরও পরীক্ষানিরীক্ষা হবে। বিধিবিধান প্রণীত হবে। সে ক্ষেত্রে কোথায় কোন কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেবে সেটি চূড়ান্ত থাকবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ক্ষেত্রমতে নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে অনুমোদন দিয়ে থাকে। ভবিষ্যতে এই ক্ষমতা ক্ষেত্রমতে ইউনিয়ন পরিষদের হাতেও দেয়ার সুযোগ রয়েছে এই আইনে।
খুলনাটুডে.কম | খুলনা বিভাগের সকল সংবাদ সবার আগে