অনলাইন ডেস্ক:
চাপ সামলে পথ চলাটা বেশ কঠিন ব্যাপার। যখন নানাবিধ ঝামেলা চারপাশ ঘিরে ধরে, অসহ্য মনে হয় স্বভাবিকভাবেই। প্রত্যেকেই চান চাপমুক্ত এক জীবন। তবে ব্যাপারটি একেবারেই সহজ নয়।
বুধবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এবেলার এক প্রতিবেদনে চাপ সামলে জীবনটাকে নতুন পথে এগিয়ে যাওয়ার উপায় সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
১. হাজারো কাজের মাঝেও নিজেকে প্রাধান্য দিতে ভুলবেন না। অবসর বার করে নিন কাজের ফাঁকে। চাপ যতই থাকুক, ব্রেক নেবেন অবশ্যই। বাড়িতে মেডিটেশন বা যোগাভ্যাস শুরু করতে পারেন। স্ট্রেস কাটাতে ঘর অন্ধকার করে গান শুনুন। শখ থাকলে ব্যালকনি কিংবা ছাদে বাগান করতে পারেন।
২. নিজেকে কথা দিন, বছরে দু’-তিন বার বেড়াতে যেতেই হবে। সেইমতো ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে ছুটির হিসেব সেরে রাখুন আগে থেকে। দু’তিন মাস অন্তত একবার করে ফ্যামিলি আউটিং, পিকনিক কিংবা কাছেপিঠে উইকএন্ড ট্রিপের প্ল্যান থাকুক আপনার রেজলিউশনে।
৩. বেড়াতে যাওয়ার ব্যাপারে যদি বিশেষ সুবিধে না-ও করতে পারেন, হাউজ পার্টির বন্দোবস্ত করে ফেলুন। নিজের বাড়িতেই হোক, কিংবা বন্ধুর বাড়িতে। তবে পার্টি আর মদ্যপান যেন সমার্থক না হয়ে যায় আপনার কাছে!
৪. ছুটির দিনে আত্মীয়দের বাড়িতে গিয়ে দেখা করে আসুন। ছেলেমেয়েদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভ্যেস তৈরি করুন। সপরিবারে সিনেমা বা ডিনারের আইডিয়াও মন্দ নয়। নিজের গাড়ি থাকলে বেরিয়ে পড়ুন লং ড্রাইভে।
৫. চাইলে যুক্ত হতে পারেন কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে। নতুন মানুষদের সঙ্গে আলাপ হলে ভালও লাগবে। সংস্থার কাজে মাঝেমধ্যে শহরের বাইরে ঘুরেও আসতে পারবেন। কনফারেন্স বা সেমিনারে বিভিন্ন জায়গায় গেলেও কাজের বাইরে কিছুই প্রায় দেখা হয় না। তাই এবার থেকে কোথাও গেলে পায়ে হেঁটে জায়গাটাকে এক্সপ্লোর করার চেষ্টা করুন।
৬. গাড়ির বদলে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে যাতায়াত করার চেষ্টা করুন। আসা-যাওয়ার মাঝে রাস্তাঘাটেই দেখবেন কত টুকরো টুকরো ছবি তৈরি হচ্ছে। চাইলে সেগুলো নোট করে রাখতে পারেন। অবসর সময় ক্লাব-পাড়ার চায়ের দোকান কিংবা কোনও রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সময় কাটাতে পারেন। দেখবেন, চার দেওয়ালের বাইরে অগুনতি অচেনা মানুষ চোখে পড়ছে।
৭. লেখার অভ্যেস থাকলে সারাদিন কী কী করলেন বা দেখলেন, লিখে রাখতে পারেন। ডায়েরি লেখার অভ্যেস নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর দারুণ উপায়। পছন্দের বিষয় নিয়ে ব্লগ লেখাও শুরু করতে পারেন। কোন রেস্তোরাঁয় খেয়ে কেমন লাগল, তা নিয়ে ফুড রিভিউও লিখতে পারেন।
৮. ফোটোগ্রাফিতে আগ্রহ থাকলে ফোটোওয়াকে বেরিয়ে পড়ুন। ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়ান শহরের আনাচে-কানাচে। বন্ধুদের সঙ্গে, না হলে একাই। শহরে বিভিন্ন ফোটোগ্রাফি ক্লাব রয়েছে, যারা নিয়মিত ফোটোট্যুরের আয়োজন করে। অনলাইন যোগাযোগ করে তাদের সঙ্গে ভিড়ে পড়ুন!
৯. যদি আপনার দু’চাকার নেশা থাকে, যে কোনও বাইকার্স ক্লাবের সদস্য হয়ে যান। জাতীয় সড়ক ধরে প্রায়ই বেরিয়ে পড়া যাবে রাইডে। ট্রেকিংয়ে আগ্রহী হলে মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাবে যুক্ত হতে পারেন। বেশ কম খরচে দল বেঁধে ট্রেক করে আসতে পারবেন।
খুলনাটুডে.কম | খুলনা বিভাগের সকল সংবাদ সবার আগে